বন্যা পরিস্থিতিতে জলের তলায় অসমের একাংশ।মানুষ, প্রচুর গবাদি পশু এবং বন্যপ্রাণীর প্রাণ গিয়েছে।ডুবেছে রাস্তাঘাট। তলিয়ে গিয়েছে বাড়িঘর। জলের নীচে গ্রামের পর গ্রাম। যে দিকে দু’চোখ যায়, শুধু জল আর জল। সেই জলে ভেসে আসছে শয়ে শয়ে গবাদি পশুর দেহ। ভাসছে মানুষের মৃতদেহও!পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ দশকে এত বড়, এত ভয়াল বন্যা দেখেনি অসম। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।বানভাসি এলাকায় তলিয়ে গিয়েছে রাস্তা, ঘরবাড়ি। আশ্রয় হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে চলে এসেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। একাধিক জেলা জুড়ে সাত লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাস্তার পাশে অথবা অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।অতিবৃষ্টির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির মধ্যে শিবসাগর অন্যতম। এ ছাড়াও চরাইদেউ, গোলাঘাট, যোরহাট, শোণিতপুরের বেশির ভাগ অংশ জলের তলায়। ক্ষয়ক্ষতি: ভয়ানক রূপ নিয়েছে সে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই প্লাবিত ১১ জেলা। অসমের ‘ডিজ়াস্টার রিপোর্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ডিআরআইএমএস) বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭ লক্ষ ২১ হাজার মানুষ।প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। খোলা হয়েছে ৪৮৭টি ত্রাণশিবির। সেখানে ২৪ হাজার ১৪৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে মোতায়েন রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। নামানো হয়েছে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার। ৫৬টি নৌকা নামানো হয়েছে বন্যাকবলিত এলাকায়। খবরে প্রকাশ, বন্যার জেরে এখনও পর্যন্ত আনুমানিক ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। কারণ : তবে এই ভয়াবহ বন্যার নেপথ্যে শুধু প্রতি বছর বৃষ্টিতে ব্রহ্মপুত্র ও অন্য নদীগুলির জল বেড়ে যাওয়াকেই দায়ী করতে রাজি নন পরিবেশ বিশেষজ্ঞেরা। এর জন্য জলবায়ুর পরিবর্তন, বনাঞ্চল হ্রাস, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, এমনকি জলবায়ু সঙ্কটও দায়ী বলে মনে করছেন তাঁরা। ব্রহ্মপুত্র নদী সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত বিবরণ উৎস : ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলে হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের নিকট জিমা ইয়ংজং (বা চেমায়ুংদং) হিমবাহে। অন্যান্য নাম: তিব্বত : ইয়ার্লুং জাংপো অরুণাচল প্রদেশ: সিয়ং বা দিহাং অসম: ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশ: যমুনা শাখানদী : লোহিত, ধানসারি, দিবাং, সুবানসারি, কামেং, তিস্তা, মানস এক নজরে অসম মুখ্যমন্ত্রী : হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যপাল: লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য রাজধানী: দিসপুর